বাংলাদেশ ক্রিকেট

মাশরাফি ভাইয়ের প্রতি হ্যাটস অফ (টুপি খোলা) অভিনন্দন : মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এলিমিনেটর ম্যাচে ঢাকা প্লাটুন কে হারিয়ে কোয়ালিফাই নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এলিমিনেটর ম্যাচ জিতে কোয়ালিফায়ার-২ এর টিকিট নিশ্চিত করে মাশরাফির পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে যিনি মাশরাফির পর সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার। তার সামনে রাখা হয় মাশরাফির সম্পূরক এক প্রশ্ন। জিজ্ঞেস করা হয়, সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবসর বিষয়ক ভাবনায় মনস্তাত্বিক বিষয়টা ঠিক কেমন থাকে?

উত্তরে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা পুরোপুরি মাশরাফি ভাইয়ের সিদ্ধান্ত। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। কারণ এটা পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। বিশ্বাসেরও একটা ব্যাপার আছে। তাই উনাকে না বলে এ বিষয়ে কিছু জানানোও ঠিক হবে না। তবে দিনশেষে এটা পুরোপুরি তার নিজের সিদ্ধান্ত।’

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা ক্রিকেটারই দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আমরা যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি, তখন ক্রিকেটকে ভালোবাসি বলেই খেলেছি। এখন হয়তো এটা আমাদের পেশা হয়েছে। শুরুতে আমি কখনই চিন্তা করিনি যে ক্রিকেটারই হবো।

পড়ালেখার পাশাপাশি খেলতাম। ভালো লাগতো, খেলতাম। ভালোবাসা, ভালো লাগা থেকে এখন পেশা হয়েছে। তো কারও কথায় আমি খেলা শুরু করি, কারও কথায় ছাড়ার পক্ষেও নই। আমি যদি মনে করি যে, এখন আমার থামা উচিত- তাহলে আমি খেলবো না।

যেহেতু এটা একান্তই আমার বিষয়, আমার ক্রিকেট, তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাও আমাকে দেয়া উচিৎ মনে করি। মাশরাফি ভাই খুব ভালো বুঝবেন কারণ এত বছর ক্রিকেট খেলেছেন।’

চট্টগ্রামের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলা নিয়ে বেশ সংশয়ই ছিল মাশরাফির। কেননা আগের ম্যাচে পাওয়া ইনজুরিতে বাম হাতে বসেছে ১৪টি সেলাই। কিন্তু এ অবস্থাতেই বাম হাতে ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে খেলতে নেমে গেছেন মাশরাফি। করেছেন পুরো ৪ ওভার বোলিং, ব্যাটিংও করতে হয়েছে ২টি বল। এছাড়া ধরেছেন ক্রিস গেইলের গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্যাচ।

মাশরাফির এমন সাহসিকতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘মাশরাফি ভাইয়ের প্রতি হ্যাটস অফ (টুপি খোলা অভিনন্দন)। কারণ ১৪টা সেলাই নিয়ে খেলেছেন। এটা সত্যিই অসাধারণ। তার জায়গায় আমি থাকলে হয়তো এটা চিন্তাও করতে পারতাম না।

উনি খেলেছেন, ভালো বোলিংও করেছেন। দারুণ একটা ক্যাচ ধরেছেন। বলটা ঘুরছিল আকাশে, গেইলের ক্যাচ… গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আর সবমিলিয়ে আমার মনে হয়, অবসরের বিষয়টা মাশরাফি ভাই’ই বলতে পারবেন। দেখা যাক কী হয়।