21.4 C
New York
June 6, 2020
বাংলাদেশ ক্রিকেট

লিটন দাস এখন অন্যরকম মনোভাব দেখাচ্ছে। এখন ৭০-৮০ রান করার পরও তার ক্ষুধা শেষ হয় না : তামিম ইকবাল

বিশ্ব ক্রিকেট মঞ্চে বাংলাদেশ এখন একটি সুন্দর জায়গায় অবস্থান করছে। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যটে বাংলাদেশ এখন একটি দুর্দান্ত দল। তবে বাংলাদেশ আগে এমনটি ছিলনা। মূলত ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের পর থেকেই কিছুটা পরিবর্তন দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যে। মাশরাফি বিন মোর্তজার নেতৃত্বে চমৎকার খেলতে থাকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

ওই বিশ্বকাপে প্রথম বারের মত কোয়াটার ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। শুধু তাই নয় এরপর ঘরের মাঠে ভারত পাকিস্তান দক্ষিণ আফ্রিকার পরাশক্তি দলগুলোকে হারিয়ে সিরিজ জয়লাভ করে বাংলাদেশ। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলাদেশ।

এছাড়াও একাধিকবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর কিছুটা ছন্দপতন হলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল আবার ফিরিয়ে আনতে চান সেই সময়।

ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ করে ওয়ানডেতে ২০১৫ সাল ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর একটা বছর। আমাদের পারফরম্যান্সের সূচক কিছুটা উত্থান-পতনময়। অধিনায়ক হিসেবে আমি এটাকে উপরে তুলতে চাই। হয়তো ওই উত্থান-পতনই ভবিষ্যতেও কিছুটা থাকবে। কিন্তু দল হিসেবে আমরা ধারাবাহিক হতে চাই।’

বাংলাদেশ ২০১৯ বিশ্বকাপে বড় প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিল। দারুণ দলও ছিল হাতে। প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে তোলপাড় ফেলে দিলেও শেষটা ঠিক ভালো হয়নি দলের। নিচের দিক থেকে তিনে থেকে শেষ করে বিশ্বকাপ। আট ম্যাচ খেলে জয় পায় তিনটিতে। বিশ্বকাপের পরে ছয় ম্যাচ খেলে তিন হার, তিন জয় দলের। তাও ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ তিন ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশ।

এ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমাদের ওয়ানডে ফরম্যাটে সঠিক পথে হাঁটতে হবে। এখন অবশ্য আমরা এই ফরম্যাটে খুব বেশি খেলছি না। কারণ এখন বেশি টি-২০ ম্যাচই হচ্ছে। তবে দল হিসেবে আমরা কি অর্জন করতে চাই সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। ২০১৫ সালে আমরা ভিন্ন এক দল ছিলাম। এখন আবার আমাদের হাতে অনেক তরুণ ক্রিকেটার। আমি নিশ্চিত আমাদের সবগুলো কাজ আমরা ঠিকঠাক করতে পারলে ২০১৫ সাল ফিরে না আসার কারণ নেই।’

তামিম আশা করছেন দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে তরুণরা এগিয়ে আসবেন। তার মতে, তরুণরা এগিয়ে আসলে এবং এই দল একটা বড় দলের বিপক্ষে ভালো জয় পেলেই আবার ঘুরে দাঁড়াবে, ‘আমাদের দলে এখন চার-পাঁচজন তরুণ ক্রিকেটার আছে। নাঈম, আফিফ, বিপ্লব ওরা নতুন। তাইজুল পাঁচ-ছয় বছর খেললেও ওয়ানডে ফরম্যাটে নতুন। একটা বড় জয় এই দলটাকে আত্মবিশ্বাস দেবে। যখন আমরা ম্যাচ জেতা শুরু করবে, আত্মবিশ্বাস এমনিতে বেড়ে যাবে।’

তামিম জানান, ২০১৫ সালে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করাই তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই আত্মবিশ্বাস ধরে ভারত এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ হারিয়েছে টাইগাররা। তখন দলের আত্মবিশ্বাস ছিল ২৫০ রান করেও প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়ার। আবার ৩০০ রানও তাড়া করার। এই দলে ওই মানসিকতা ঢুকলেই আবার বড় দলকে হারানো শুরু করবে বলে বিশ্বাস তামিমের।

বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক তার ওপেনিং সঙ্গী লিটন দাসের মতো অন্য সতীর্থদের সাফল্য ক্ষুধা তৈরির কথাও বলেন, ‘লিটন দাস এখন অন্যরকম মনোভাব দেখাচ্ছে। তার মানসিকতা বদলে গেছে। এখন ৭০-৮০ রান করার পরও তার ক্ষুধা শেষ হয় না। রেকর্ড ভাঙা ১৭০ রান করার পরও সে আরও ভালো করতে চায়। আমি আশা করছি সবাই তার পথ অনুসরণ করবে। আমাদের সামনে আরেকটি উদাহরণ মুশফিকুর রহিম। খারাপ সময়ে তিনি খুবই পরিশ্রম করেন। তার মতো করে সবাই ভাবলে অধিনায়ক, কোচের কাজটা খুবই সহজ হয়ে যায়।’

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy