অান্তজাতীক ক্রিকেট

সামর্থ্যবানরা অতিরিক্ত জিনিস কিনে রেখেছে। ফলে গরিব মানুষরা কিছুই পাচ্ছে না : শহীদ আফ্রীদি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে এমন অবস্থা আর কখনোই হয়নি। একটি সময় যুদ্ধকেই মনে হতো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক। কিন্তু সেই আতঙ্ক হয়ে গেছে এখন একটি ভাইরাস।করোনাভাইরাসে থমকে গেছে বিশ্ব। ১৮৮ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি এই ভাইরাস। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ১৫ হাজার জন।

পাকিস্তানও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশটিতে ৬৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩ জন। আর ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দেশটির এমন কঠিন সময়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তিতুল্য ক্রিকেটার আফ্রিদি। নিজের গড়ে তোলা আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ অলরাউন্ডার সাহায্য করছেন সাধারণ মানুষদের।

“সৃষ্টিকর্তা আমাকে অনেক দিয়েছেন। যার কারণে চেষ্টা করছি অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে। যাতে করে কাল আল্লাহ আমাকে প্রশ্ন না করে বসে আমি তোমাকে অনেক দিয়েছি, তুমি অসহায়দের জন্য কি করেছ?’- করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অসহায়দের সাহায্য করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি।

রোববার (মার্চ ২২) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় আফ্রিদি নিজের কাজের বিষয় সম্বন্ধে অবগত করেন। একইসঙ্গে মানুষদের সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দেন। পাশাপাশি যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের এগিয়ে আসতেও আহবান করেন।

ভিডিও বার্তায় আফ্রিদি বলেন, ‘করোনার ভয়াবহতা এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সবাই জানেন। পুরো বিশ্বের পাশাপাশি পাকিস্তানেও করোনার প্রভাব পড়েছে। এই সময়ে আমাদের সকলের দায়িত্ব একে অপরকে সাহায্য করা। এছাড়াও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের খেয়াল রাখা। হাত ধোঁয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু পেপার ব্যবহার করা। সবার এ সময় সতর্ক থাকা উচিত।’

নিজের ভিডিও বার্তায় আফ্রিদি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের এখন আল্লাহর দেখানো পথে চলা উচিত। সামনে রমজান, তার উপর করোনার প্রভাবে দেশের পরিস্থিতি ভালো না। সামর্থ্যবানরা অতিরিক্ত জিনিস কিনে রেখেছে। ফলে গরিব মানুষরা কিছুই পাচ্ছে না।

দোকানে গেলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও তার দাম এত বেশি যে গরিবরা তা কিনতে পারছে না। আমি আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি গ্রামে এমন মানুষদের সাহায্য করতে এসেছি, করোনার কারণে যাদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’